প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে ‘ঘোস্ট শার্ক’ নামের পানির নিচে চলা স্বয়ংক্রিয় ড্রোন তৈরি করবে অস্ট্রেলিয়া। এর জন্য প্রায় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১১০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টার্টআপ অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ যৌথভাবে এ প্রকল্প উন্নয়নে কাজ করছে। এর আওতায় ড্রোনগুলো নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আক্রমণ চালানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে ঘোস্ট শার্ক নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিনের সঙ্গে কাজ করবে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পমন্ত্রী প্যাট কনরয় জানিয়েছেন, ডজনখানেক ঘোস্ট শার্ক অস্ট্রেলিয়ায়ই তৈরি হবে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে মিত্র দেশগুলোয় রফতানির সুযোগও থাকবে।
প্রথম ড্রোন ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেবায় যুক্ত হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, এ ড্রোনগুলো অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে অনেক দূর পর্যন্ত নজরদারি ও আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে। তবে এগুলোর প্রকৃত কার্যক্ষমতা বা উৎপাদন সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে আগামী দশকের শুরু থেকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পরমাণুচালিত সাবমেরিন কেনা ও নির্মাণের পরিকল্পনা করছে অস্ট্রেলিয়া। এ পরিকল্পনা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের দ্রুত নৌশক্তি গড়ে তোলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাক্ষরিত অকাস চুক্তির অংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে অকাস চুক্তি পুনর্বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্লেস বলেছেন, ‘ঘোস্ট শার্ক প্রকল্প বর্তমান প্রতিরক্ষা বাজেটের ভেতর থেকেই অর্থায়ন করা হচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে করা চুক্তিতে আগামী পাঁচ বছর ঘোস্ট শার্কের সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করবে মার্কিন স্টার্টআপ অ্যান্ডুরিল। ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে ঘোস্ট শার্কের উন্নয়ন শুরু হয়। এরই মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসে একটি কারখানাও প্রস্তুত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।